২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৩:৪২ পিএম

এক বছরে এইডস রোগী শনাক্ত ও মৃতের নতুন রেকর্ড 

এক বছরে এইডস রোগী শনাক্ত ও মৃতের নতুন রেকর্ড 
এ বছর এইডস আক্রান্তদের মধ্যে এক হাজার ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বাকি ১৫৮ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে পড়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে গত এক বছরে এক হাজার ২৭৬ জন নতুন এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ২৬৬ জনের। এক বছরে আক্রান্ত ও মৃত্যু রোগীর সংখ্যার বিচারে এটি সর্বোচ্চ। সেই হিসাবে প্রতিদিন দেশে তিনজনের বেশি মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হন।

বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) মহাখালীতে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি।

এ বছর আক্রান্তদের মধ্যে এক হাজার ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক। বাকি ১৫৮ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে পড়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা। অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জাতীয় যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. মাহফুজুর রহমান সরকার। তিনি জানান, গত বছর ( ২০২২সালে) সারা দেশে ৯৪৭ জন এইডস রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ২৩২ জনের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরে আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন রোগী ঢাকায়। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৪৬, রাজশাহীতে ১৭৫, খুলনায় ১৪১, বরিশালে ৭৯, সিলেটে ৬১, ময়মনসিংহে ৪০ এবং রংপুর জেলায় ৩৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক বছরে। তাদের মধ্যে ৮৫০ জন পুরুষ ও ২৭৮ জন নারী। ৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ গত এক বছরে এইডস আক্রান্ত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর এবং ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেস্পন্সিবিলিটিজের (এফডিএসআর) উপদেষ্টা ডা. আবদুন নূর তুষার উপস্থিত ছিলেন।

ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন,বাংলাদেশ অনেক রোগ নির্মূল বা নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও এইডস নিয়ন্ত্রণে থমকে আছে। এইডস নির্মূলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় আরও বেশি জোর দিতে হবে। পাশাপাশি রোগটি যেন না ছড়ায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আক্রান্তদের দূরে সরিয়ে রাখা নয়। সরকার এইডসের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধসব সব ধরনের সেবা দিচ্ছে। আমাদের এখানে অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসায় রি-ইউজেবল অনেক কিছু ব্যবহার করা হয়। ওই জিনিসগুলো জীবানুমুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে দেখা যাবে একজন নির্দোষ ব্যক্তি যিনি একটি কলোনস্কপি, এন্ডোস্কপি বা যে কোনও একটা পরীক্ষা করাতে এসে আক্রান্ত হয়ে গেলেন।

রোগটি বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, মানুষ এখন এক জায়গায় অবস্থান করছে না। সারা বিশ্বে অবাধ যাতায়াত করছে। ফলে সংক্রামক রোগও দ্রুত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছড়িয়ে যায়।

মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এর দুইটা কারণ হতে পারে। আগে হয়তো অজ্ঞাত রোগ হিসেবে মারা যেত। এখন এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ভালো হওয়ায় রোগী শনাক্ত বেশি হচ্ছে, এইডস আক্রান্তের মৃত্যু এইডস হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে। আরেকটা হতে পারে বাংলাদেশে যারা এইডস আক্রান্ত তাদের বয়স হয়েছে, তাদের অনেকের ন্যাচারাল ডেথ হচ্ছে।

এইডস আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া পুরুষ সমকামীদের মধ্যেও এই রোগ ছড়াচ্ছে। এ বছর যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৯৮৪ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৮৬ জনের। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ধারণা, বাংলাদেশে এইচআইভি ভাইরাস বহনকারী মানুষের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি।

এসএস

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : এইডস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক